চেয়ারম্যান মহোদয়ের বাণী

সৃষ্টিশীল, মেধাবী ও সুন্দর মনের মানুষ তৈরির প্রথম সোপান হলো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। যুগের চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে এবং কার্যকর ও সুসমন্বিত প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে ২০০৪ সালে গড়ে তোলা আমিরজান হাই স্কুল ২০২৫ সালের ২ ডিসেম্বর সাফল্যময় ২১ বৎসর অতিবাহিত করেছে। শিক্ষকদের সার্বক্ষণিক পরিচর্যা এবং শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের আন্তরিক প্রচেষ্টায় পি.ই.সি, জে.এস.সি ও এস.এস.সি তে অসাধারণ ফলাফলের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি দুর্বার গতিতে এগিয়ে চলেছে তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে।
মানসম্মত শিক্ষার অঙ্গীকার পূরণে এবং একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার উপযোগী করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে আমাদের সার্বিক প্রয়াস প্রতিষ্ঠানটিকে যুগোপযোগী করে গড়ে তোলা। এর জন্য প্রতি বছরই আমরা অন্যান্য উন্নত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাথে সঙ্গতি রেখে চাহিদা অনুযায়ী নতুন সংযোজন ঘটিয়ে চলেছি। আধুনিক শিক্ষার বাস্তবায়নে তাই রয়েছে উন্নত শ্রেণিকক্ষ, বিজ্ঞানাগার, লাইব্রেরী, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কম্পিউটার ল্যাব এর সু-ব্যবস্থা।
“Talent or potentialities is nothing but an inner spirit that uplifts and accelerates the hidden treasure lying in any living being” আমি আমার ব্যক্তি জীবনে বৈশ্বিক বিভিন্ন শিক্ষা ব্যবস্থার সাথে যুক্ত হয়ে এতটুকু বুঝেছি যে, শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধির জন্য সিলেবাস ভিত্তিক পড়াশুনার পাশাপাশি শিক্ষার্থীর সুপ্ত প্রতিভার সঠিক বিকাশ প্রয়োজন। শিক্ষার গুণগত মান ও কাঠামোগত দিক থেকে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিকে আমরা অত্যন্ত সমৃদ্ধ করে গড়ে তোলার সার্বিক প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছি। তারই ধারাবাহিকতায় শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রমের পাশাপাশি শৈল্পিক সত্তার বিকাশে রয়েছে হাউজ ভিত্তিক সহ শিক্ষা কার্যক্রম ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম অনুশীলনের ব্যবস্থা।
ভুমনী একটি প্রত্যন্ত অঞ্চল হওয়ায় একটা সময় এস.এস.সি পাশের পর এলাকার অনেক মেধাবী শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যেত। সেসব বিবেচনায় আমরা ২০১২ সালে আমিরজান কলেজ প্রতিষ্ঠা করেছি। ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের উচ্চতর ডিগ্রীর জন্য আমিরজান কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে রূপান্তর করার পরিকল্পনা চলছে। আমিরজান স্কুল ও কলেজের পাশাপাশি অন্যান্য স্কুল কলেজেও শিক্ষার মান উন্নয়নে এবং দেশ ব্যাপী শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছি। এর ফলস্বরূপ বাংলাদেশ সরকার আমাকে ‘জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক ২০১১ ঢাকা বিভাগের শ্রেষ্ঠ শিক্ষানুরাগী’ হিসেবে সম্মানিত করেছেন। এর জন্য আমি সকলের প্রতি কৃতজ্ঞ।
মানব সম্পদ উন্নয়নের মূল উপাদান যেহেতু শিক্ষা তাই সারা দেশে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিয়ে আমরা গড়তে চাই কুসংস্কার ও অজ্ঞতার অন্ধকারমুক্ত এবং গোড়ামী ও সংকীর্ণতার উর্ধ্বে একটি সমৃদ্ধ দেশ ও জনপদ। শিক্ষা মানুষের জীবনের শ্রেষ্ঠ সম্পদ। শুধু পরীক্ষায় ভালো ফলাফল অর্জন করাই শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য নয়; বরং জ্ঞান, নৈতিকতা, শৃঙ্খলা, সততা ও মানবিক মূল্যবোধের মাধ্যমে একজন আদর্শ মানুষ হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলাই প্রকৃত শিক্ষা। শিক্ষার্থীরা , তোমরা নিয়মিত পড়াশোনা করবে, সময়ের সঠিক ব্যবহার করবে, শিক্ষক ও অভিভাবকদের সম্মান করবে এবং দেশ ও সমাজের প্রতি দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে নিজেকে প্রস্তুত করবে। মনে রাখবে—আজকের পরিশ্রম, শৃঙ্খলা ও অধ্যবসায়ই আগামী দিনের সফলতার ভিত্তি। আমিরজান হাই স্কুলের প্রতিটি শিক্ষার্থী জ্ঞান ও নৈতিকতার আলোয় আলোকিত হয়ে পরিবার, সমাজ ও দেশের কল্যাণে কাজ করবে—এটাই আমার প্রত্যাশা। দেশ ও জাতিকে আলোকিত মানুষ উপহার দেয়ার এই মহৎ কর্মযজ্ঞে আমি এলাকাবাসীর সার্বিক সহযোগিতা কামনা করছি।

মোঃ জিল্লুর রহমান , চেয়ারম্যান ,আমিরজান হাই স্কুল এবং আমিরজান কলেজ